আমাদের সম্পর্কে
আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন
আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক শিক্ষা, দাওয়াহ ও পূর্ণত মানবকল্যাণে নিবেদিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে কয়েকজন বন্ধু মিলিত হয়ে এই সংগঠন গড়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠান মানবতার শিক্ষক, মানুষের মুক্তি ও শান্তির দূত, মানবসেবার আদর্শ, মহানবী মুহাম্মদ সা.-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবা, সমাজ-সংস্কার, মহোত্তম নীতিচেতনার সঞ্চার, পরিচ্ছন্ন মানসিকতা গঠনে নিরন্তর নানা কর্মসূচি পালন, সর্বোপরি একটি আদর্শ কল্যাণসমাজ বিনির্মাণে যথাশক্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন ও সমাজ গঠন করা এবং বিশুদ্ধ ইলমের প্রচার ও বিস্তার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য। সালফে সালিহীনের পথ ধরে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আমাদের নীতি।
নীতি ও আদর্শ
- পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ তথা কর্মনীতিই আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এর মূল আদর্শ।
- কুরআন-সুন্নাহকে সালাফে সালিহীনের ব্যাখ্যার আলোকে গ্রহণ করা।
- আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আহর আক্বীদা ও দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা।
- শিরকমুক্ত ঈমান ও বিদ‘আতমুক্ত আমলের প্রতি আহ্বান করা।
- উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির জন্যে কাজ করা।
- মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে যথাসম্ভব প্রান্তিকতা পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।
- রাজনৈতিক কর্ম ও অবস্থান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করে যাওয়া।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- আরকোয়াম স্যোসাল ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশান এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার ব্যাবস্থা এবং দেশের অবহেলিত মানুষদের সাহায্য করা। আমরা আমাদের লক্ষ্য/মিশন ধারা দারিদ্রতার যে বৃত্ত ইহা থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা।
- আরকোয়াম এর মূল লক্ষ্য ১০ টি :
- ১। গরিব ও অসচ্ছল রোগীদের সাহায্যে করা
- ২। স্পেশাল চাইল্ড ( প্রতিবন্ধীদের) নিয়ে কাজ
- ৩।সুবিধা বঞ্চিত মা-বাবাদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম
- ৪।মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাহায্য
- ৫।পথশিশুদের শিক্ষা ও পূনর্বাসন ,শিশুশ্রমিকদের শিক্ষা সহ কর্মস্থলের ব্যাবস্থা করা
- ৬।সেচ্ছায় রক্তদানের ব্যাবস্থা করা
- ৭। দ্বীন প্রচারে এতিমখানা ও মাদ্রাসা নির্মাণ
- ৮। মাদকাসক্তদের পূনর্বাসন ব্যাবস্থা করা
- ৯। সুবিধা বঞ্চিত বিধবা নারীদের সাহায্য করা
- ১০। খাদ্য , পুস্টি ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজে সহায়তা করা
কার্যক্রম
আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন প্রধানত দুইটি সেক্টরে কাজ করে— শিক্ষা ও সেবা
শিক্ষা কার্যক্রম সমূহ
- প্রাজ্ঞ আলেম ও নিবেদিতপ্রাণ দা‘য়ী ইলাল্লাহ গড়ে তুলতে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষা সম্বলিত আধুনিক যুগোপযোগী পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠা।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নানা সামাজিক ও জীবনমুখি বিষয়ের ওপর প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা।
- উচ্চতর ইলমী গবেষণাকেন্দ্র।
- কর্মজীবী নর-নারীর জন্য বিভিন্ন মেয়াদী ইসলামশিক্ষা কোর্সের আয়োজন।
- আস-সুন্নাহর চেতনাকে কেন্দ্রে রেখে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
- প্রাক প্রাথমিক স্তরে বুনিয়াদি শিক্ষা বিস্তারে সবাহী মকতব প্রতিষ্ঠা।
- অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে পড়া-লেখা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগানো।
সেবা কার্যক্রম
- বেকারত্ব দূরীকরণে ও দারিদ্র্য বিমোচনে হস্তশিল্প, যন্ত্রশিল্প, কারিগরি, খামার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান।
- সময়ে সময়ে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ-সহায়তা প্রদান।
- রামাদান মাসে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও দা’ওয়াহ এর আয়োজন।
- দুঃস্থদের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ফিতরা, পোশাক ও ঈদ-সামগ্রী বিতরণ।
- সচ্ছলদের পক্ষ হতে কুরবানীর আয়োজন করে দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ।
- দুঃস্থদের মধ্যে রিকশা, সেলাই মেশিন ইত্যাদি উপার্জন উপকরণ বিতরণ।
- সুপেয় পানির সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নলকূপ ও জলাধার স্থাপন।
- পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাবলম্বীকরণের লক্ষ্যে অভাবী পরিবার ও আবাসিক মাদরাসার আঙিনায় অধিক ফলনশীন বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা।
- শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য নানামুখী প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান।
- বিধবাদের ব্যয়ভার গ্রহণ ও এতিমদের পরিণত হয়ে ওঠা অবধি অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণপূর্বক শিক্ষাদান ও প্রতিপালন।
তহবিল ও আয়ের এর উৎস
- ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণের দানের অর্থে ক্রীত সম্পত্তি ও তহবিল দিয়ে যাত্রা শুরু।
- সদস্য, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এককালীন ও নিয়মিত অনুদান।
- সংগঠনের যে কোন প্রকল্প থেকে অর্জিত হয়।
- জনসাধারণ কর্তৃক বিশেষ কোনো খাতে প্রদত্ত অনুদান।
- সচ্ছল মুসলিমদের প্রদেয় যাকাত, ফিতরা।
- ইফতার ও কুরবানীসহ বিশেষ বিশেষ খাতে উসুলকৃত অর্থ।
- সরকারি বা বেসরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও অর্থসহায়তা।
- বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা বাবদ সংশ্লিষ্ট প্রজেক্ট থেকে কর্তনকৃত ৫-১০% অ্যডমিনিস্ট্রেটিভ খরচ।
ব্যয়ের নীতিমালা
- দাতাগণ যে খাতের জন্য দান করে থাকেন, সে খাতেই ব্যায় করা হয়। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয় না।
- যাকাত তহবিলে সংগৃহীত অর্থের শতভাগ হকদারদের মাঝে বণ্টন করা হয়।
- প্রতিটি প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।
- বছরে একবার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষণ করা হয়।
- হিসাব-বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টীমের তত্ত্বাবধানে আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন সকল আর্থিক কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।
শিক্ষা
প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও যুগোপযোগী দা‘য়ী তৈরির লক্ষ্যে সাধারণ ও দীনি শিক্ষার সমন্বিত সিলেবাসের মাদরাসা শুরু করেছে ফাউন্ডেশন। এই মাদরাসার কাঠামো এরকমভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় দীনি জ্ঞান অর্জিত হয়ে যায়। এর পর শিক্ষার্থী পুরোপুরি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হতে পারবে, চাইলে মাদরাসায় উচ্চতর পড়াশোনাও অব্যাহত রাখতে পারবে। ফাউন্ডেশন পর্যায়ক্রমে ইসলামিক স্কুল ও কলেজ স্থাপনের কাজও আরম্ভ করবে ইন-শা-আল্লাহ।
সেবা
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন যেসব সেবামূলক কাজ করেছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- বন্যায় ত্রাণ বিতরণ: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বন্যা-কবলিত বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন । এই প্রকল্পের আওতায় এ খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
- ইফতার বিতরণ: দেশব্যাপী ১০০০০ জন রোযাদারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
- শীতবস্ত্র বিতরণ: দেশব্যাপী ১০০০ জন শীতার্তের মঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
- খাদ্য সামগ্রী বিতরণ: দারিদ্র্য পীড়িত কয়েকটি জেলায় ১৬ টি দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
- ইয়াতীম ও বিধবা স্পন্সর: বিভিন্ন স্পন্সরগণের মাধ্যমে ৪৩ জন ইয়াতীমের ভরণ-পোষণ এবং পড়াশোনাসহ যাবতীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করছে আরকোয়াম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন।
- বৃক্ষরোপণ: পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বল্প আয়ের লোকদের স্বাবলম্বীকরণে ও সদাকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আবাসিক মাদরাসা ও অভাবী মানুষের বাড়ির আঙিনায় অধিক ফলনশীল ২৬০০ টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।